ঢাকা, রবিবার ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩, ২২ জিলক্বদ ১৪৪৭ | এখন সময়:

Advertise@01680 34 27 34

নারীদের প্রতি যেমন ছিলেন পাবলো পিকাসো


অনলাইন ডেস্কঃ

প্রকাশিত:   ০৪:০৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩   আপডেট:   ০৫:০৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩  
নারীদের প্রতি যেমন ছিলেন পাবলো পিকাসো
নারীদের প্রতি যেমন ছিলেন পাবলো পিকাসো

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, ভাস্কর। পৃথিবীজোড়া খ্যাতি তাঁর। চিত্রশিল্পের নানা আঙিনায় কাজ করেছেন। তারপরও বিখ্যাত এই শিল্পীর মেধার সবকিছু কি এই বিশ্ব পেয়েছে? তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে ৮ এপ্রিল। মৃত্যুর এত দিন পরও স্প্যানিশ এই মাস্টারপিস শিল্পীর চিত্রকর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ অফুরান। তিনি পাবলো পিকাসো।

পিকাসোর সিরামিকস, পিকাসোর ভাস্কর্য, পিকাসো ও নারীবাদ, পিকাসোর সাদার ব্যবহার, পিকাসোর সেলিব্রিটি ফটোগ্রাফ—১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিল তাঁর মৃত্যুর পর গত অর্ধশতকে এমন নানা বিষয় নিয়ে অসংখ্য প্রদর্শনী হয়েছে।

পিকাসোর নাতি অলিভার উইডমায়ার-পিকাসো বলেন, ‘পিকাসো আমাদের সবকিছু গেলাচ্ছেন। এখনো আমরা ক্ষুধার্ত। এখনো আমরা তাঁর নতুন কিছু দেখতে চাই।’ তিনি বলেন, অসংখ্য জাদুঘররক্ষক, ঐতিহাসিক ও গবেষক পাবলো পিকাসোতে মুগ্ধ হয়ে আছেন। তাঁরা তাঁর নানা দিক উন্মোচনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মৃত্যুর আগপর্যন্ত কাজ করে গেছেন

পিকাসোর প্রতিভা, মেধা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে তাঁর উত্থান চিত্রশিল্পের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। চিত্রশিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভা মেলে ধরেছেন।

সেই যে কাজ শুরু করেছেন, আর কখনো থামেননি। কৈশোর থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত ৯১ বছর বয়সেও কাজ করে গেছেন। ১৮৮১ সালে স্পেনে তাঁর জন্ম আর ১৯৭৩ সালে ফ্রান্সে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্যারিসের জাদুঘর পমপিদৌ সেন্টারের সাবেক পরিচালক বার্নার্ড ব্লিসটিন বলেন, পিকাসো এখনো সবার ওপরে।

ব্লিসটিন বলেন, অসাধারণ উদ্ভাবন, ৮০ বছর ধরে অব্যাহত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তৃপ্তি-অতৃপ্তির আকাঙ্ক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে পিকাসো একজনই।

পিকাসোর নারীরা

মিটু আন্দোলন পিকাসোর এই খ্যাতিকে কিছুটা বিবর্ণ করে দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নারীবিদ্বেষী। তিনি তাঁর স্ত্রী ও বান্ধবীদের নির্যাতন করেছেন। ব্যক্তি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নতুন করে বিবেচনার দাবি উঠেছে।

অবশ্য প্যারিসে পিকাসো জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর এমিলি বৌভার্ড বলেন, তাঁর জীবনে আসা নারীদের নিয়ে আমাদের কথা বলা বন্ধ করতে হবে। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ মানসিক রোগী হয়ে গেছেন।

সেসব নারীর মধ্যে ব্যতিক্রম ফ্রান্সচয়েস গিলট। তিনি পিকাসোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ১৯৬০–এর দশকে লেখা বিখ্যাত বইয়ে পিকাসোকে অত্যাচারী, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অহংকারী বলে উল্লেখ করেছেন। বিয়ে না করলেও চিত্রশিল্পী গিলট তাঁর সঙ্গে ১০ বছর ছিলেন এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।

গিলটের বইয়ে পিকাসোর সমালোচনা করা হলেও এতে তাঁর ভাবমূর্তির খুব বড় যে ক্ষতি হয়েছে, তা বলা যাবে না। পিকাসো এখনো নিলামে সবচেয়ে দামি চিত্রশিল্পীদের তালিকায় থাকেন। আর্টপ্রাইসের তথ্যমতে, তাঁর চিত্রকর্ম থেকে কেবল গত বছরই ৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৫ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা—১০৭ টাকা ডলার দর ধরে) আয় এসেছে।

বৌভার্ড বলেন, পিকাসোর মধ্যে একটা ভারসাম্য পাওয়া যায়। তাঁর চিত্রকর্মে সহিংসতা, যৌনতা—মাঝেমধ্যে নৃশংসতা এমনকি সাহস ও সততার বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর জীবনে আসা নারীদের ওপর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি সেসব উপলব্ধি প্রয়োগ করেছেন।

আসলে এসব কথা তুললে পিকাসোর চিত্রশিল্পের নানা দিক উন্মোচিত হবে। এই গ্রীষ্মে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি প্রদর্শনী হবে, যেখানে এই শিল্পীকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে এবং এবার তাঁকে মূল্যায়ন করা হবে ‘নারীবাদী আয়নায়’। পিকাসোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত কমেডিয়ান হানাহ গডসবি এই প্রদর্শনীর সহ–আয়োজক।

ইতিমধ্যে প্যারিসের পিকাসো জাদুঘরে প্রদর্শনী দেখতে দলে দলে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। এখানেই অনেকেই বলছেন, এই যৌনতার রাজনীতি কেবল পিকাসোর কাজকে খাটো করবে।

প্রদর্শনীটির ডিজাইনার পল স্মিথ বলেন, ‘আমি নানাভাবে এই প্রদর্শনীর সাজসজ্জা করেছি। কারণ, এখানে স্কুলের শিক্ষার্থী ও কিশোরা–কিশোরীরা আসবে। তারা ভিন্ন ভিন্ন আলোকে পিকাসোর কর্ম দেখবে।’

পল স্মিথ বলেন, ‘আমাদের অনেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে পিকাসোর কাজ দেখেছি। সুতরাং আমরা এবার নতুনভাবে তাঁকে তুলে ধরতে চাই।’

জীবন-যাপন থেকে আরও পড়ুন

ইউরোপ মৃত্যুবার্ষিকী ফ্রান্স বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভাস্কর পাবলো পিকাসো

আপনার মন্তব্য লিখুন...