ঢাকা, সোমবার ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ | এখন সময়:

Advertise@01680 34 27 34

খালেদা জিয়ার সাফাই গাইতে খুনের দায় নিচ্ছেন বিএনপির নেতারা: তথ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্কঃ

প্রকাশিত:   ০১:০৮ এএম, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট:   ০১:০৮ এএম, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০  
খালেদা জিয়ার সাফাই গাইতে খুনের দায় নিচ্ছেন বিএনপির নেতারা: তথ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার সাফাই গাইতে খুনের দায় নিচ্ছেন বিএনপির নেতারা: তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বিএনপির নেতারা খুনের দায় নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। রোববার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমান স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই তথ্যমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের সদস্যদের, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শহীদ আইভি রহমানসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কাগজে দেখলাম, যখন জনগণের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে খালেদা জিয়াকেও ২১ আগস্টের হামলার বিচারের আওতায় আনা হোক, তখন মির্জা ফখরুল সাহেব তাঁর নেত্রীকে রক্ষা করার জন্য বিরাট এক লম্বা বিবৃতি দিয়েছেন।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেদিন মুক্তাঙ্গনে সভা করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সেখানে গ্রেনেড হামলা চালানো সহজ হতো না, সে জন্যই অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেটি সহজেই অনুমেয়। পরে ২১ আগস্ট সকালবেলা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলেও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশের ক্ষেত্রে সব সময়ের মতো আশপাশের ভবনগুলোতে পাহারায় থাকা আমাদের দলের নেতা–কর্মীদের সেদিন পুলিশ থাকতে দেয়নি। গ্রেনেড হামলার পর আহত ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য যারা এগিয়ে এসেছে, তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরে রাতে তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় সেখানে পানি ছিটিয়ে সব আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেডগুলো সংরক্ষণ করার কারণে এক সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। কেন?’ এরপর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন এ ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলের মোসাদ বাহিনীর সম্পর্ক থাকতে পারে উল্লেখ করে একটি উদ্ভট গাঁজাখুরি রিপোর্ট দেয় এবং সংসদে যখন এ নিয়ে শোক প্রস্তাব দেওয়া হলো, তখন তা আনতে দেওয়া হয়নি; বরং হাস্যরস করা হয়েছে—উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান গ্রেনেড হামলায় আহত সাক্ষী হিসেবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, খালেদা জিয়াই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাঁর পুত্রের মাধ্যমে এ হামলা পরিচালনা করেছিলেন। আজকে তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ঠিক বিচারের জন্য জনগণের দাবি হচ্ছে খালেদা জিয়াকেও হুকুমের আসামি করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ বিচার সম্পন্ন হবে বলে জনগণ মনে করে না।

আজকে যখন এ দাবি উঠেছে, তখন তাঁদের গাত্রদাহ হচ্ছে এবং খালেদা জিয়াকে রক্ষা করার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব একটি বড় বিবৃতি দিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলব, আপনার নেত্রীর পক্ষে দয়া করে সাফাই গেয়ে নিজেদের গায়ে কাদা মাখবেন না, খুনের দায়ভার নেবেন না। আপনারা যে খুনের রাজনীতি করেন এবং খুনের রাজনীতির ওপরই আপনাদের দল প্রতিষ্ঠিত, সেই কালিমা-গ্লানি থেকে মুক্ত হতে হলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন। দয়া করে এ ধরনের বিবৃতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাবেন না।’

সভার বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, শেখ হাসিনার ভাগ্যের সঙ্গে এ দেশের মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এ কারণেই সৃষ্টিকর্তা বারবার তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আইভি রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী আইভি রহমান দেশের রাজনীতিতে মহানুভবতা ও নিরহংকার ত্যাগী নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।

আইভি রহমান পরিষদের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মো. আকরাম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামান খোকার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংসদ উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ), আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আপনার মন্তব্য লিখুন...