মহাকাব্যিক রহস্য-রোমাঞ্চ চলচ্চিত্র 'M' আজও অমলিন
অনলাইন ডেস্কঃ
প্রকাশিত: ০৭:১২ এএম, বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ আপডেট: ০৭:১২ এএম, বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১
সিনেমার ইতিহাস নিয়ে সামান্য ঘাটলে দেখা যায়, জার্মান ফিল্মমেকার Fritz Lang চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বড় নাম। তার একাধিক সিনেমাই ধ্রুপদী মর্যাদা পেয়েছে। M তার অন্যতম সফল সিনেমা। বিদগ্ধ পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ৯০ বছর আগে জার্মান ভাষায় বানানো একটা সাদাকালো সিনেমা কেন দেখবো? কি আছে এর মধ্যে আহামরি? উত্তর - ধ্রুপদীর মর্যাদা পেলেও এটি মূলধারার সিনেমা-ই এবং বিনোদনে ভরপুর। দুই, অনেক চরিত্রের সমাবেশ ও ঘটনার সমাহার থাকলেও আজকের দিনের ব্লকবাস্টার মুভিগুলার মতো M ম্যাসি বা ক্যাওটিক নয়; রোমাঞ্চকর সিনেমা হলেও দম নেবার ও সাবটাইটেলে চোখ বুলাবার পর্যাপ্ত সময় পাবেন। প্লাস, এটি সেই বিরল শ্রেণীর সিনেমা, যেখানে ভাষা সিনেমা বোঝার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক নয়। অডিও বন্ধ করে দেখলেও এই সিনেমা বুঝতে - উপভোগ করতে কোনো সমস্যাই অনুভব করবেন না। তিন, এই ছবির বাকে বাকে রোমাঞ্চ। একাধিক চরম মূহুর্ত ( ক্লাইমেক্স) রয়েছে। চার, কিছুক্ষণ পর পর এই সিনেমা নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায় এবং সফলভাবে নতুন উচ্চতায় নিজেকে তুলে নিতে সফল হয়।
শহরের স্বাভাবিক জীবন প্রবাহ ব্যাহত হয়ে পড়ে যখন পুলিশ একের পর এক বালিকাদের লাশ পেতে শুরু করে। অভিভাবকবৃন্দ আতঙ্কিত, পুলিশ কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাজ, কিন্তু কিছুতেই খুনী/দের সনাক্ত পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। সব মহল থেকে চাপ বাড়তে থাকলে পুলিশ বাহিনী খুনি/দের ধরতে শহরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু করে। এই কড়াকড়িতে ছিচকে চোর-বাটপারদের পেটে লাথি পড়ে। অস্তিত্বের স্বার্থে তাদের অলিখিত সংগঠনের নেতৃস্থানীয়রা সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা গোপন সভা আহবান করে যাতে শহরের সব চোর-বাটপার অংশগ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয়, পুলিশকে দিয়ে হবে না, নিজেদের জীবিকা বাচাতে হলে এই খুনি/দের ধরতে তাদেরই উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায় না খেয়ে মরতে হবে। তো, তারা কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে রাস্তায় নেমে পড়ে।
এই ফিল্মের চরিত্রগুলো হয়তো অচিরেই ভুলে যাবেন, কিন্তু গল্পটি আপনার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রাখবে। অন্য কথায়, যেকোনো চরিত্রের চেয়ে গল্পটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, গল্পটিই নায়ক। চরিত্র হিসেবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চেয়ে সমাজ গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। M এর শেষভাগ(ফিনালে) মহাকাব্যিক (এপিক)। এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা, মিস করবেন না। গ্রাফিক ভায়োলেন্স ও ভয়ংকর কোনো দৃশ্য নেই। ১৯৩১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ১১৭ মিনিট।