ঢাকা, শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭ | এখন সময়:

Advertise@01680 34 27 34

চিকিৎসা সেবায় ময়মনসিংহের সাফল্যের কথা


অনলাইন ডেস্কঃ

প্রকাশিত:   ০৭:০৪ এএম, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৯    
চিকিৎসা সেবায় ময়মনসিংহের সাফল্যের কথা
চিকিৎসা সেবায় ময়মনসিংহের সাফল্যের কথা

আপনারা সকলেই জেনেছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশসেরার স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহের চিকিৎসা সেবার একটা সুনাম আগে থেকেই রয়েছে। এসবের পেছনে অবদান রয়েছে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের। যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে আচরণ একরকম থাকে বেশিরভাগ ডাক্তারদেরই।

প্রতিবেদক এবং তার পরিবারের শরণাপন্ন হওয়া ময়মনসিংহের খ্যাতিমান চিকিৎসকদের নিয়ে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল। চিকিৎসকের মধ্যে ছিল, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান গণ এবং একজন প্রাক্তন অধ্যাপকও রয়েছেন। 

প্রথম বার, নিজ প্রয়োজনে একজন মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সম্মুখীন হওয়ার গল্প। ডাক্তার রোগের বিবরণ শোনার পরেই রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হন। সাথে থাকা অভিভাবক পল্লী চিকিৎসক হওয়ায় উনি অবাক হয়ে বলেন স্যার আমি এই ওষুধটা 


রোগীকে খাইয়েছি, কোন পরিবর্তন নেই। ডাক্তার বললেন কোন পরীক্ষা - নিরীক্ষা দেই নি বলে, ওষুধের প্রতি আস্থা পাচ্ছেন না? আপনি নিয়মিত ওষুধ গুলো খাইয়ে তারপর দেখা করবেন রোগীকে নিয়ে। এইটা অনুধাবন করা গেল, উনি সত্যিই রোগ নির্ণয় করতে পেরেছিলেন, এমনকি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থতার দিকে এগোতে লাগলাম। 

দ্বিতীয় বারও নিজ প্রয়োজনেই একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন। উনি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। রোগের বিবরণ শোনে, কার্যত ওষুধ দিয়েই বিদায় করে দিল। কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি ডাক্তার সাহেব। পাশে থাকা অভিভাবক, ভিজিটিং কার্ড চাওয়ার পর উনি হাঁসিমুখেই দিয়ে দিল। রোগী’র সাথে করমর্দনও করলেন ডাক্তার। ফলাফল বেশ ভালো এবং কার্যকরী ওষুধ ছিল। 

তৃতীয় বার পরিবারের প্রয়োজনে, গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের নিকট স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের গল্প। বাইরে থেকে ওজন, রক্তচাপ সহ কিছু প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা করে নিলেন উনার সহকারী। রোগী ভেতরে যাওয়ার পরে, সমস্যা জানতে চাইলেন ডাক্তার। সমস্যা শোনেই ডাক্তার সাহেবা বলে দিতে সক্ষম হন, রোগটা কি কারণে হয়েছে। 


পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে, এক মাস পর দেখা করতে বলেন। ওষুধ চলাকালীন সময়ে, রোগী পুরোপুরি সুস্থতা অনুভব করে। ওষুধ শেষ হলে কিছু সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তী সাক্ষাতে, শুধুমাত্র আলট্রাসনোগ্রাফ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পরীক্ষার ফলাফল দেখে, কিছু নতুন ওষুধ সংযোজন করে দেন। রোগী সুস্থতার দিকেই এগোচ্ছে। 

চতুর্থ বার ষাটোর্ধ, প্রতিবেদকের সম্পর্কে দাদা। এবার প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানের কাছে। উনি সমস্যা জানতে চাওয়ার পরেই পুরোনো কাগজপত্রও মনোযোগের সহিত দেখলো। কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া, আগের ফলাফল্গুলো মূল্যায়ন করে একুশ দিন পর সাক্ষাৎ করতে বলেন। সর্বশেষ পাওয়া খবরেও রোগী আগের চাইতে ভাল অনুভব করছেন।

প্রতিবেদক পরিবারের প্রয়োজনে, ঢাকায় বিশিষ্ট চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তাদের কারো কারো ৬০০০-২১৫০০ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকাও গুণতে হয়েছে। আবার এমনটাও হয়েছে, ময়মনসিংহ - ঢাকার পরীক্ষা - নিরীক্ষার ফলাফলের পার্থক্য।

আজ ০৭ই এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। রোগীদের বিবেচনায় - সকল ডাক্তার সুস্থ্যতা লাভের মধ্য দিয়ে দীর্ঘজীবী হোক আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকুক। যাতে করে সকল রোগীরাই সু-স্বাস্থ্যের মাধ্যমে পরমায়ু লাভ করতে পারেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...